চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসির প্রথম কর্মচারী নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি ৪ জন বিএনপি দলীয় লোক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র বলছে, নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ১২ জনের ৮ জনই উপাচার্যের নিজ এলাকা মদনহাটের, বাকি ৪ জন নিজ উপজেলা হাটহাজারীর। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মচারীদের নথি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে।
জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন কর্মচারীর সবার বাড়ি বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্ ফোরকানের হাটহাজারী উপজেলার। গত ১৬ মার্চ নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের এটিই প্রথম নিয়োগ বলে জানিয়েছে রেজিস্ট্রার ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ তালিকায় থাকা সকল ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে ৮ জনের বাড়িই ফতেহপুর ইউনিয়নের ‘মদনহাট’ এলাকায়। বাকি ৪ জন হাটহাজারী সদরের আলমপুর, চন্দ্রপুর, ফটিকা এবং কাটিরহাটের পশ্চিম ধলই ও মীরেরখীল গ্রামের বাসিন্দা।
এছাড়াও নিয়োগপ্রাপ্ত ১২জনের ভেতর সংগঠন বিএনপি ও ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছাত্রদল নেতা ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আদিলকে চবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ‘নমুনা সংগ্রহকারী’ এবং ফতেহপুর যুবদল নেতা মেহেদি সুলতানকে ভিসি অফিসের ‘অফিস পিয়ন’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত নথির তালিকায় থাকা অন্যান্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা হলেন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর ক্যাটালগার মো. জোনায়েত হোসাইন মারুফ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের নার্সারী সহকারী মো. হানিফ, সূর্যসেন হলের ঝাড়ুদার মো. শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ঝাড়ুদার মো. সাইম উদ্দীন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পিয়ন শহীদুল ইসলাম রিপন, জাদুঘরের মালী মাহী আল মাহাবুব, শাহজালাল হলের বার্তাবাহক শাহরিয়ার শহীদ রাফি, ফরেস্ট্রি বিভাগের পিয়ন মাহফুজ আলম, একই বিভাগের হেলপার মাহমুদুল হোসাইন এবং ভিসি অফিসের পিয়ন মো. ইমতিয়াজ।